Painless Delivery

ব্যথামুক্ত ডেলিভারী ( আভা পেইন এন্ড ইন্টারভেনশন সেন্টার)

প্রসব যন্ত্রনা প্রশমনে এপিডুরাল

আমরা জানি,প্রসব ব্যথা হচ্ছে অন্যতম কষ্টদায়ক ব্যথা | ব্যথামুক্ত ডেলিভারীর কথা মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই চিন্তা করেছে | ১৮৪৭ সালে প্রথম জেমস্‌ ইয়ং সিম্পসন (James Young Simpson) ইথার ব্যবহার করেন| ১৮৫৩ সালে জন স্নো ( John Snow ) রানী ভিক্টোরিয়ার ৮ম সন্তান জন্মদানের সময় তাকে ক্লোরোফর্ম প্রয়োগ করেন| রানী মন্তব্য করেন – “ Dr Snow gave me the blessed chloroform and the effect was soothing quieting and delightful beyond measure”.

এপিডুরাল অ্যানেসথেসিয়া প্রসব যন্ত্রনা প্রশমনে পৃথিবীতে সর্বাপেক্ষা কার্যকরী এবং নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে সমাদৃত|

সন্তান জন্মদানের সময় ব্যথার মাত্রা

সন্তান জন্মদানের সময় একজন মা যে পরিমান ব্যথা সহ্য করেন তা হাঁড় ভেঙ্গে যাওয়ার ব্যথার থেকেও প্রায় দ্বিগুন | তাই প্রসব বেদনা নিয়ে প্রত্যেক মায়ের মধ্যে একটি আতংক কাজ করে| এ কারনে অনেকে সিজারকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হন | এত ব্যথা হয় যে, সন্তান জন্ম দেয়ার সময় মা ভাবেন তিনি আর সন্তান জন্মদান করবেন না | কিন্তু অভিজ্ঞ অ্যানেসথেসিওলজিস্ট  ব্যথামুক্তভাবে ডেলিভারীরত একজন মা কে সাহায্য করতে পারেন |

এপিডুরাল অ্যানেসথেসিয়া কি?

এটি এক ধরনের ব্যথা নিবারণ পদ্ধতি যার মাধ্যমে শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশকে ব্যথামুক্ত রাখা সম্ভব | এই পদ্ধতির মাধ্যমে শরীরের নিচের অংশে বেদনানাশক প্রয়োগ করা সম্ভব | পিঠে একটি চিকন সূচের মাধ্যমে একটি ক্যাথেটার স্থাপন করে রাখা হয় যার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী ঔষধ প্রয়োগ করা যায়, বারবার সূচের আঘাতের প্রয়োজন হয় না |

 

উন্নত বিশ্বের হসপিটাল ডেলিভারীতে প্রায় ৪০% ক্ষেত্রে এপিডুরাল ব্যবহ্রত হয় |

পদ্ধতির সুবিধাগুলো কি ?
  • বাচ্চা জন্মদানের তীব্র কষ্ট হতে একজন মা কে অনেক্ টা স্বস্তি দিতে পারে |
  • এপিডুরাল গ্রহণের ফলে মা ব্যথামুক্ত থাকে কিন্তু সম্পুর্ণ সচেতন থাকার ফলে তিনি সন্তান জন্মদানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন |
  • যদি কোন মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন এর প্রয়োজন হয় তবে তাকে এপিডুরাল ক্যাথেটার দিয়েই ঔষধ প্রয়োগে দ্রুত অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব |
  • এপিডুরাল মা কে সন্তান জন্মদানের ক্লান্তি ,অবসাদ এবং নিঃশোষিত অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে |
  • অন্যান্য পদ্ধতির চেয়ে কম ঔষধ প্রয়োজন হয় |
  • এই পদ্ধতির প্রয়োগে আপনি বিশ্রামে থাকতে পারবেন যদি লেবার প্রলম্বিত হয় |
  • ব্যথার ভয়ে এখন অনেক মা নরমাল ডেলিভারী করতে চান না , তাদের অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান সেকশন এপিডুরাল এর মাধ্যমে এড়ানো যেতে পারে |
অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট এর ভূমিকা
  • আপনার স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন এবং কোন ঝুঁকি থাকলে তা নিয়ে আলোচনা করবেন |
  • আপনার ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনার সম্মতিক্রমে একটি পরিকল্পনা করবেন |
  • এপিডুরাল দেয়া এবং পরিচালনার জন্য দায়ী থাকবেন |
  • সর্বোপরি আপনার ব্যথামুক্ত ও নিরাপদ ডেলিভারীর জন্য কাজ করবেন |

 

ব্যথামুক্ত ডেলিভারীতে আভা পেইন এন্ড ইন্টারভেনশন সেন্টারে ( APIC ) ডাঃ এম এস আরেফীন এর নির্দেশনায় একটি নিবেদিত টিম হিসেবে কাজ করছে ,

                                              “ ব্যথামুক্ত স্বাভাবিক প্রসবকে হ্যা বলুন |”  
কি ঝুঁকি আছে ?
  • কিছু ক্ষেত্রে ব্লাড প্রেসার কমে যেতে পারে , কিন্তু অভিজ্ঞ অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট এর তত্ত্বাবধানে এ ঝুঁকি নেই বললেই চলে |
  • এপিডুরাল দেবার পর শীতশীত লাগা,বমিভাব, সামান্য কানে ঝিঁ ঝিঁ করার মত উপসর্গ দেখা দিতে পারে তবে তা সাময়িক |
  • এপিডুরাল দিয়ে ব্যাথামুক্ত ডেলিভারীতে ফরসেপ ডেলিভারীর প্রয়োজন হতে পারে |

 

        তদুপরি এটি বিশ্বে বহুল  ব্যবহৃত নিরাপদ ও ব্যথামুক্ত ডেলিভারীর জন্য সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি |