Advices

ঘাড়ে ব্যাথার উপদেশ

 

  • জোড়ে ঘাড় নাড়াবেন না।
  • বোতল হাতে ঘাড় বাকা করে পানি পান করবেন না।
  • মেরুদণ্ড ও ঘাড় নিচু করে কোনো কাজ করবেন না।
  • ব্যথার জায়গায় নির্দিষ্ট সময় ধরে গরম বা ঠাণ্ডা ভাপ দিন। সময়টা ১০ থেকে ১৫ মিনিট হলে ভালো হয়।
  • নরম ফোম শোয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এর বদলে উঁচু, মাঝারি শক্ত ও সমান বিছানায় শোবেন।
  • থারমো ব্যাগ দিয়ে ঠান্ডা/গরম শ্যাক দিন।
  • চিকিৎসকের নির্দেশমতো নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। তবে ব্যথা বেড়ে গেলে ব্যায়াম বন্ধ রাখবেন।
  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। পেট ভরে খাওয়া নিষেধ। অল্প অল্প করে বার বার খাবেন। প্রতিবার খাবারের আগে কিছুটা পানি পান করে নিন।চেয়ারে টেবিলে বসে ভাত খেতে হবে।
  • শোয়ার সময় তোয়ালে রোল করে ঘাড়ের নিছে দিয়ে শুবেন। উপুর হয়ে ঘুমাবেন না, শুয়ে শুয়ে টিভি দেখবেন না।
  • কোন প্রকার মালিশ করবেন না।
  • ঝাকিপূর্ণ যানবাহন অথবা রাস্তা ব্যবহার করবেন না।যাত্রার সময় সামনের আসনে বসবেন।গাড়িতে চড়ার সময় সারভাইকাল কলার (Cervical Collar) ব্যবহার করবেন।ভ্রমনের সময় অবশ্যই পরবেন, ঘুমানের ও ব্যায়াম করার সময় খুলে নিবেন।
  • মাথায় কোন ওজোন নেবেন না।
  • গোসলের সময় আপনার আক্রান্ত কাঁধে ২০ থেকে ৩০ মিনিট গরম পানি ঢালুন। এরপর আবার কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে ঠাণ্ডা পানি ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড সময় ধরে ঢালুন।
  • দুশ্চিন্তা পরিহার করবেন।

 

কোমরে ব্যথা- উপদেশ

 

১. মেরুদণ্ড ও ঘাড় নিচু করে কোনো কাজ করবেন না।

২. বিছানায় শোয়া ও উঠার সময় যেকোন একদিকে কাত হয়ে হাতের উপর ভর দিয়ে শোবেন ও উঠবেন।

৩. ব্যথার জায়গায় নির্দিষ্ট সময় ধরে গরম বা ঠাণ্ডা ভাপ দিন। সময়টা ১০ থেকে ১৫ মিনিট হলে ভালো হয়।

৪। অনেক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। প্রয়োজনে আধ ঘন্টা পর পর অবস্থান বদলাবেন।হাটু ভাঁজ করে বসা উচিত নয়।

৫. নিচু জিনিস যেমন- পিড়া, মোড়া বা ফ্লোরে না বসে চেয়ারে বসতে হবে।

৬. নরম ফোম শোয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এর বদলে উঁচু, মাঝারি শক্ত ও সমান বিছানায় শোবেন     

৭. মাথায় বা হাতে ভারী ওজন বা বোঝা বহন এড়িয়ে চলতে হবে।দাঁড়িয়ে বা চেয়ারে বসে রান্না করা যাবে ।

৮. চিকিৎসকের নির্দেশমতো নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। তবে ব্যথা বেড়ে গেলে ব্যায়াম বন্ধ রাখবেন।

৯. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। পেট ভরে খাওয়া নিষেধ। অল্প অল্প করে বার বার খাবেন। প্রতিবার খাবারের আগে কিছুটা পানি পান করে নিন।চেয়ারে টেবিলে বসে ভাত খেতে হবে।

১০. হাই হিল যুক্ত জুতা ব্যবহার করবেন না। নরম জুতা ব্যবহার করবেন।

১১] উঁচু কমোডে বসে টয়লেট করুন। ব্যথা বেশি অনুভূত হলে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন।

১২। উপুর হয়ে ঘুমাবেন না, শুয়ে শুয়ে টিভি দেখবেন না। 

১৩। কোন জিনিস তোলার সময় সোজা হয়ে বসে তুলুন।

১৪। ঝরনায় অথবা সোজা হয়ে বসে গোসল করবেন।

১৫। মোটা ব্যাক্তির শরীরের ওজন কমাতে হবে।

১৬। সিঁড়িতে উঠার সময় ধীরে ধীরে হাতল ধরে সোজা হয়ে উঠবেন।

১৭। কোন প্রকার মালিশ করবেন না।

১৮। ঝাকিপূর্ণ যানবাহন অথবা রাস্তা ব্যবহার করবেন না।যাত্রার সময় সামনের আসনে বসবেন।গাড়িতে চড়ার সময় লাম্বার করসেট ব্যবহার করবেন।কলার/করসেট-বেল্ট দেয়া হলে তা ভ্রমনের সময় অবশ্যই পরবেন, ঘুমানের ও ব্যায়াম করার সময় খুলে নিবেন।

১৯। উচু কমোডে বা চেয়ার ছিদ্র করে বসে বসে পায়খানা/প্রস্রাব করবেন।

২০। অনেক্ষন ধরে বসা, দাঁড়ানো হাটা বা দৌড়ানো ঠিক নয়।

২১। দুশ্চিন্তা পরিহার করবেন।

 

হাঁটু   ( হাঁটুতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস)

 

হাঁটু শরীরের সবচেয়ে বড় এবং জটিল জয়েন্টগুলোর একটি।

হাঁটুতে  অস্টিওআর্থ্রাইটিস হলে জয়েন্টে যে ধরনের পরিবর্তন আসে:

 

কার্টিলেজ অথবা মিনিছকি ক্ষয় হয়ে হাড় বাহিরে বের হয়ে আসে। জয়েন্টে হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হতে থাকে যার জন্য ভেতরে জায়গা কমে যায়। এতে হাঁটু ভাঁজ এবং সোজা করার সময় হাড়ের ঘর্ষণের ফলে ব্যথা হয়।

 

হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস:                                               

 

অস্টিওআর্থ্রাইটিস এক ধরনের জয়েন্টের রোগ যা জয়েন্টের কার্টিলেজ এবং হাড়ের ক্ষয়ের কারণে হয়ে থাকে। এটা মূলত শরীরের সবচেয়ে বড় এবং ওজন বহনকারী জয়েন্টগুলোতে হয়ে থাকে, যেমন- মেরুদণ্ড, নিতম্ব বা হাঁটুর জয়েন্ট। এছাড়া গোড়ালী ও হাতের জয়েন্টে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয়ে থাকে, তবে সবচেয়ে বেশি হয় হাঁটুর জয়েন্টে।

 

যেসব কারণে হাঁটুতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয়ে থাকে:

 

১। হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের অনেকগুলো কারণের মধ্যে বয়স একটি অন্যতম কারণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়েন্টের ভেতরের কার্টিলেজের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। ফলে সহজেই ক্ষত সৃষ্টি হয়।       

২। শরীরের ওজন বাড়ার ফলেও অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয়ে থাকে, অতিরিক্ত ওজনের ফলে হাঁটুতে বেশি পরিমাণে চাপ পরে যা ধীরে ধীরে জয়েন্টে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে।

৩। বংশগত কারণেও অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয়ে থাকে।

৪। নারীদের অস্টিওআর্থ্রাইটিস বেশি হয়ে থাকে পুরুষদের চেয়ে।

৫। যারা বাড়িতে বা অফিসে এমন ধরনের কাজ করেন যেখানে হাঁটু ভাঁজ করে অনেক সময় বসে থাকতে হয়, সামনের দিকে ঝুঁকে কোন ভারী জিনিস উঠাতে হয় এদের অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৬। অনেক সময় অন্য কোন রোগের কারণেও অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয়ে থাকে।               

 

যেসব লক্ষণ দেখা যায়:

 

১। হাঁটু ফুলে যাবে এবং ব্যথা বেড়ে যাবে, ব্যথাটা উপরে বা নিচে ছড়িয়ে যেতে পারে।

২। মাংশপেশী শক্ত হয়ে যাবে এবং আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাবে।

৩। হাঁটু ভাজ এবং সোজা করার ক্ষমতা কমে যাবে।

৪। অস্টিওআর্থ্রাইটিস দীর্ঘদিন যাবৎ নিয়ন্ত্রণ না করলে অঙ্গ বিকৃতিও হতে পারে।

 

  • হাটু ব্যথার উপদেশ
  • চিকিৎসকের নির্দেশমতো নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। তবে ব্যথা বেড়ে গেলে ব্যায়াম বন্ধ রাখবেন।
  • উচু কমোডে বা চেয়ার ছিদ্র করে বসে বসে পায়খানা/প্রস্রাব করবেন।
  • অনেক্ষন ধরে বসা, দাঁড়ানো হাটা বা দৌড়ানো ঠিক নয়।
  • মোটা ব্যাক্তির শরীরের ওজন কমাতে হবে। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। পেট ভরে খাওয়া নিষেধ। অল্প অল্প করে বার বার খাবেন। প্রতিবার খাবারের আগে কিছুটা পানি পান করে নিন। চেয়ারে টেবিলে বসে ভাত খেতে হবে।
  • সিঁড়িতে উঠার সময় ধীরে ধীরে হাতল ধরে সোজা হয়ে উঠবেন।
  • আঘাত জনিত ব্যাথা হলে কোন প্রকার মালিশ করবেন না।
  • অনেক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। প্রয়োজনে আধ ঘন্টা পর পর অবস্থান বদলাবেন।হাটু ভাঁজ করে বসা উচিত নয়।
  • নিচু জিনিস যেমন- পিড়া, মোড়া বা ফ্লোরে না বসে চেয়ারে বসতে হবে।
  • মেঝেতে অনেক সময় ধরে হাঁটু ভাঁজ করে বসে থাকা এড়িয়ে চলতে হবে। মেঝেতে হাঁটু ভাজ করে বসে নামায পড়া বা মেঝেতে বসা বাদ দিতে হবে। ছোট একটি টুল বা চেয়ারে বসে এই কাজগুলো করতে পারেন।
  • গৃহস্থালী কাজ করার সময় মনে রাখতে হবে হাঁটু যেন অনেক সময় ধরে ভাঁজ হয়ে না থাকে।
  • সবসময় সতর্ক থাকবেন যেন পড়ে গিয়ে বা আঘাত পেয়ে পুনরায় হাঁটুতে কোন ব্যথা না পান।
  • হাঁটু ফোলা থাকলে ব্যথা কমাতে বাড়িতে দুই ঘন্টা পর পর এক মিনিট করে কয়েক বারে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য ঠান্ডা সেক দিতে হবে। কয়েকটি বরফের টুকরা একটি পাতলা টাওয়ালে পেঁচিয়ে হাঁটুতে ধরে রাখতে হবে।
  • হাঁটুর ব্যথা এবং শক্তভাব কমাতে বাড়িতে দুই ঘন্টা পর পর দুই থেকে তিন মিনিট কয়েক বারে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য গরম সেক দিতে হবে। গরম পানি একটি বোতলে ভরে পাতলা টাওয়াল দিয়ে পেঁচিয়ে ‍সেটি দিয়ে হাঁটুতে গরম সেক দিতে পারেন।
  • সঠিক খাবার খান : যা খাচ্ছেন তার প্রভাব সরাসরি দেহে প্রভাব ফেলে। পুষ্টিকর খাবার শক্তিশালী হাঁটু তৈরি করে। তাই পুষ্টিকর খাবার খান।
  • ভিটামিন ডি : যেকোনো বয়সে ক্যালসিয়ামের সঙ্গে ভিটামিন ডি দারুণ শক্তিশালী হাড় গঠন করে। ভিটামিন ডি এর অভাবের সঙ্গে অস্টেয়োপরোসিসের সম্পর্ক রয়েছে। সূর্যের আলোতে ভিটামিন মেলে। তবে পাশাপামি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।
  • দুশ্চিন্তা পরিহার করবেন।